মুগদা থেকে অপহৃত শিশু হিসানকে গাইবান্ধায় উদ্ধার

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে অপহৃত তিন বছরের শিশু হিসান রহমানকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় পলাশবাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুর ১টার দিকে মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে শিশুটিকে নিয়ে উধাও হয় এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক। এ ঘটনায় মুগদা থানায় মামলা হয়। জারি করা হয় ‘মুন (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন) অ্যালার্ট’।

মুগদা থানার ওসি ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বৃহস্পতিবার  বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে অপহরণ মামলা হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বুধবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিশুসন্তানকে ইজিবাইকে বসিয়ে রেখে তার মা সামনের দোকানে যান। পরমুহূর্তে ইজিবাইক চালক গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে ফুটেজে ইজিবাইক চালকের ছবি অস্পষ্ট। ঢাকার সব থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

শিশুটির মা সুমাইয়া আক্তার জানান, মুগদার দক্ষিণগাঁও এলাকার ছয় নম্বর সড়কের একটি বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন তিনি। তার স্বামী হারুন রহমান প্রবাসী। বুধবার সকালে তিনি একটি ক্লিনিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট নিতে মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সঙ্গে ছিল হিসান। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি সন্তান নিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্য হাসপাতালের সামনে থেকে একটি ইজিবাইকে ওঠেন। এরপর পানি পিপাসা বোধ করায় তিনি চালককে একটি দোকানের সামনে থামতে বলেন। পরে তিনি হিসানকে রিকশায় রেখে দোকানে গিয়ে এক বোতল পানি কেনেন। ফিরে দেখেন ইজিবাইকটি নেই।

শিশুটির মামা আজিজুর রহমান বলেন, আমরা আশপাশের এলাকায় খুঁজেছি। কিন্তু ওই চালক দ্রুত ইজিবাইক নিয়ে কোথাও পালিয়ে গেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে যে হিসানের মা বুঝতেই পারেননি। সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে এখন তিনি পাগলপ্রায়।

জিডি হওয়ার পরপরই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ‘মুন অ্যালার্ট’ জারি করা হয়। শিশুটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। মুন অ্যালার্টের ফেসবুক পেজ ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে হিসানের ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহায়তায় শিশুটিকে দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধার করতে মেট্রোরেল এলাকা ও বিভিন্ন বিলবোর্ডে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিও প্রচার করা হয়।

-সাইমুন