জলমহালে বিষ প্রয়োগে কোটি টাকার মাছ নিধন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নেত্রকোনা-৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এবার সেই উত্তাপ পৌঁছেছে হাওরের জলমহালে। খালিয়াজুরী উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের পরিচালিত এক জলমহালে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় কোটি টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে একটি কুচক্রী মহল এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা সদরের একাকায় ১১২ একর আয়তনের ‘মরা ধনু ঘোনা’ জলমহালটিতে বুধবার রাত ২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা বিষ ছিটিয়ে দেয়। এর ফলে রুই, কাতল, মৃগেলসহ বিভিন্ন দেশি মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে, যা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জলের মাছের বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারিভাবে ইজারা নেওয়া এই জলমহালটির বার্ষিক ইজারা মূল্য ৮৬ লাখ টাকার বেশি। এটি ‘রসুলপুর–জগন্নথপুর মদিনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’-এর নামে বরাদ্দকৃত। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ২৩ জন পরিচালক সরাসরি খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

জলমহালের পরিচালক ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক প্রচার ও নির্বাচনী কাজে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে মো. তাহের মিয়া খালিয়াজুরী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যেই এই জঘন্য কাজ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, “জলমহালে বিষ প্রয়োগের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্তমানে এলাকায় এ ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মৎস্যজীবীরা নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।

-মহসিন মিয়া,নেত্রকোনা