স্থায়ী আস্তানা গাড়ছে সিআইএ, দ্বিতীয় ইউক্রেন হচ্ছে ভেনেজুয়েলায়?

ভেনেজুয়েলায় স্থায়ী আস্থানা গাড়তে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ। ইউক্রেনের কিয়েভে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটি যেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতেও ঠিক সেই মডেল অনুসরণ করা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন হেফাজতে যাওয়ার পর এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সাথে ওয়াশিংটনের বর্তমান সমীকরণের সুযোগ নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা আস্তানাটি মার্কিন দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার অনেক আগেই কার্যক্রম শুরু করবে। এর মাধ্যমেই ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে প্রভাব খাটাবে আমেরিকা।

ইউক্রেনে সিআইএ-র কার্যক্রমের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের পরপরই সেখানে সংস্থাটি তাদের জাল বিস্তার শুরু করে। সে সময় ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাকে পুনর্গঠনের নাম করে সিআইএ এসবিইউ এবং এইচইউআর-এর মতো সংস্থাগুলোর ভেতর ঢুকে পড়ে।

গত দশ বছরে তারা রাশিয়ান সীমান্তের কাছে ডজনখানেক আন্ডারগ্রাউন্ড ঘাঁটি তৈরি করেছে। ইউনিট ২২৪৫ নামে একটি দুর্ধর্ষ আধাসামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই ইউনিটটি রাশিয়ান ভূখণ্ডে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং গুপ্তহত্যার মতো গোপন অপারেশন পরিচালনা করতো বলে নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এমনকি ইউক্রেনের বর্তমান গোয়েন্দা প্রধান কিরিল বুদানভও সিআইএ-র সরাসরি তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ভেনিজুয়েলায় সিআইএ-র এই নতুন পদক্ষেপে এখন শুধু কারাকাস নয় বরং কিউবা এবং কলম্বিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভেনিজুয়েলার পর কিউবা তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবায় শাসন পরিবর্তনের জন্য প্রকাশ্যেই চাপ দিচ্ছেন। ভেনিজুয়েলায় সিআইএ-র স্থায়ী উপস্থিতি কিউবার অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ এবং সেখানকার সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস হিসেবে কাজ করবে। একইসাথে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর প্রতি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং ভেনিজুয়েলার সাথে দেশটির দীর্ঘ সীমান্তের কথা মাথায় রাখলে বোঝা যায়, এই অঞ্চলটিতে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে সিআইএ বড় ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বাইরে থেকে ওয়াশিংটনের আদেশের নিন্দা জানালেও সিআইএ এজেন্টরা ভেতরে ঠিক কতটা গভীরে প্রবেশ করতে পারবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা চলছে।

-সাইমুন