মানবপাচার মামলায় এরিত্রিয়ান দালালের ২০ বছরের কারাদণ্ড, নেদারল্যান্ডসে নজিরবিহীন রায়

ছবিঃ সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভিবাসী পাচার মামলায় এরিত্রিয়ার নাগরিক আমানুয়েল ডব্লিউ-কে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার জ্বোল্লে শহরের আদালত প্রথম পর্যায়ের রায় ঘোষণা করে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে তাঁর।

আদালত জানিয়েছে, আমানুয়েল ডব্লিউ একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার নামে তিনি শত শত অভিবাসীকে “চরম অমানবিক পরিস্থিতির” মধ্যে ফেলেছিলেন বলে মন্তব্য করেন বিচারক।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, “ভালো ভবিষ্যতের আশায় ইউরোপে যেতে চাওয়া মানুষদের কাছ থেকে যত বেশি সম্ভব অর্থ আদায় করাই ছিল আপনার একমাত্র লক্ষ্য।”

লিবিয়ায় নির্যাতন, মুক্তিপণের জন্য জুলুম

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের লিবিয়ার বিভিন্ন আটক শিবিরে নির্যাতন, মারধর, এমনকি যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়। কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগও উঠে এসেছে। বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে নেদারল্যান্ডসে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মুক্তিপণ আদায় করা হতো।

আমানুয়েল ডব্লিউ-এর বিরুদ্ধে মানবপাচার, চাঁদাবাজি, সহিংসতা এবং অর্থপাচারের একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের সর্বোচ্চ সাজা অনুযায়ীই তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপে এই ধরনের প্রথম বড় মামলা

নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিশেষজ্ঞ লুইজি প্রোসপেরি জানান,
“এই প্রথম কোনো ইউরোপীয় দেশ লিবিয়ায় একাধিক আটক শিবির পরিচালনাকারী একটি অপরাধচক্রের শীর্ষ নেতাকে বিচারের আওতায় আনল।”

এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ অধিকাংশ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে নেদারল্যান্ডসের বা্লিরিহি বিয়ায়। তবে ভুক্তভোগীদের পরিবার নেদারল্যান্ডসে বসবাস করায় দেশটির আদালত এই মামলার বিচার করার এখতিয়ার পেয়েছে।

নেদারল্যান্ডসে কেন বিচার সম্ভব হলো

আমানুয়েল ডব্লিউ-কে ২০২২ সালের অক্টোবরে ইথিওপিয়া থেকে প্রত্যর্পণ করে নেদারল্যান্ডসে আনা হয়। প্রসিকিউশন জানায়, মুক্তিপণের অর্থ নেদারল্যান্ডস থেকে পাঠানো হতো, যা সরাসরি লিবিয়ার আটক শিবিরে চলমান নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত।

২০২৪ সালে নেদারল্যান্ডসের পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিস সুদান ও লিবিয়ার সম্ভাব্য সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য অনলাইন প্রচারও চালায়।

তদন্ত এখনও চলমান

ডাচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। আরেক প্রধান সন্দেহভাজন এরিত্রিয়ান নাগরিক কিদানে জেড এইচ-কে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নেদারল্যান্ডসে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। তাঁর প্রথম আদালত হাজিরা নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩১ মার্চ।

নিউজঃ সংগৃহীত

বেলাল হোসেন/