আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের আগে অনুদান, বরাদ্দ ও সংবর্ধনা গ্রহণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাঁদা, অনুদান বা উপটৌকন প্রদান কিংবা এর প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপটৌকন প্রদান কিংবা প্রদানের অঙ্গীকার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে কোনো প্রার্থী কোনো প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা সংগঠন থেকে কোনো ধরনের সংবর্ধনাও গ্রহণ করতে পারবেন না।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না। একই সময়ে কোনো সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান ঘোষণা, বরাদ্দ প্রদান বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবেন না।
এদিকে আচরণ বিধিমালার ধারা ৫ অনুযায়ী, সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয়কে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবে নির্বাচন পরিচালনার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব সরকারি স্থাপনা ব্যবহারে অগ্রাধিকার পাবেন।
ইসি জানিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আরপিও ৯১খ(৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ আচরণবিধির কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
একইভাবে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলটিকেও সর্বোচ্চ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে। কমিশনের কাছে প্রাপ্ত রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরপিও ৯১ঙ অনুযায়ী লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার চালানো যাবে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।