মাদারীপুরের ১০ যুবক ১০ মাস ধরে নিখোঁজ, ইতালি পাঠানোর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে দালালচক্র

মাদারীপুরের ১০ যুবক প্রায় ১০ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে দালালচক্র তাদের বিদেশে নেওয়ার পর থেকে আর কোনো খোঁজ মিলছে না। যুবকেরা বেঁচে আছেন কিনা তাও জানে না তাদের পরিবার। এদিকে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে দালালরা এলাকায় গড়ে তুলেছে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি।

নিখোঁজ যুবকদের স্বজনরা জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গাজীরচর এলাকার জাহাঙ্গীর ঢালীর স্ত্রী পেয়ারা বেগমের মাধ্যমে তারা দালালচক্রের খপ্পরে পড়েন। প্রথমে প্রতি জনকে সরাসরি ইতালি নেওয়ার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা করে চুক্তি করা হয়।

গত বছরের জানুয়ারিতে বাড়ি ছাড়েন লিমন বেপারী, জয় আহম্মেদ, রবিউল মাতুব্বর, ওয়ালিদ হাসান, জীদান হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আজমুল খাঁ, মোহাম্মদ আলী, তুহিন মজুমদার ও মাহবুব নামের ১০ যুবক। পরে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে।

স্বজনদের দাবি, লিবিয়ায় আটকে রেখে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। মুক্তিপণের জন্য ফোন করে পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। পরে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা আদায় করে দালালচক্র। সব টাকা পরিশোধের পর গত বছরের এপ্রিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় যুবকদের। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ।
পরিবারগুলো জানায়, এরপর থেকে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা এড়িয়ে যায়। বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে দালালচক্রের সদস্যরা লাপাত্তা হয়ে পড়ে। নিখোঁজ যুবকদের পরিবারে এখন চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা পেয়ারা বেগমের বড় ছেলে ফারদিন ঢালী, যিনি ইতালিতে অবস্থান করে মানবপাচারের নির্দেশনা দেন। আর ছোট ছেলে সৌরভ স্থানীয়ভাবে পরিবারের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন। এ চক্রের সঙ্গে শরিয়তপুরের জালাল কাজীর ছেলে সবুজ কাজী ও লিয়াকত শেখের ছেলে মুজাহিদ শেখ জড়িত বলেও অভিযোগ স্বজনদের। সবুজ ও মুজাহিদ সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিখোঁজ ১০ যুবকের মধ্যে একজনের পরিবার ইতোমধ্যে একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
নিখোঁজদের স্বজনদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দালালচক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সন্তানদের জীবিত বা মৃত অবস্থার খোঁজ জানতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাবিবুর রহমান সুমন মাদারীপুর