বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী মাঠে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রচারণা বাধা এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ওই আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মালিকানাধীন একটি টেক্সটাইল মিলের ব্যাংক ঋণকে পুঁজি করে আমাকে ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে প্রচার চালানো হয়। এমনকি ব্যাংকের একজন ম্যানেজারকে দিয়ে মিথ্যা নোটিশও করানো হয়েছিল।” তবে আইনি লড়াই ও ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল করে তিনি বর্তমানে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু হয়েছে। নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়ে নাম কাটার বিনিময়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন: তাঁর নারী কর্মীদের হ্যান্ডমাইক নিয়ে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তোলেন তিনি।
থানা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মান্না বলেন, প্রভাবশালী মহলের চাপে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। তিনি প্রশাসনকে মনে করিয়ে দেন যে, তারা কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তির অনুগত নয়, বরং রাষ্ট্রের কর্মচারী। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান আন্নাসহ জেলা ও উপজেলা নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে মান্না আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে ‘ষড়যন্ত্র’ পরাজিত হবে এবং জনগণের রায়ে সত্যেরই জয় হবে।
–লামিয়া আক্তার










