ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের একাধিক প্রার্থী বলেছেন, তাদের সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে প্রয়োজনে একযোগে সবাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন এক প্রার্থী।
তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। আমাদের সব বাহিনী মাঠে থাকবে এবং খুব শিগগিরই আপনারা এর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাবেন। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এ আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, জোর করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে যদি কাউকে কিছু বলা হয়, তাহলে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে? আপনারা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আমরা একযোগে পদত্যাগ করে চলে যাব। ভোট দিতে গিয়ে যদি কেউ বাধার মুখে পড়ে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আপনারা কী করবেন, সেটা আপনারাই ভালো বোঝেন। প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হয়েছে, আমার পোলিং এজেন্ট হওয়া যাবে না। হলে এলাকায় থাকতে দেবে না। গত ১৭ বছর প্রশাসনকে ব্যবহার করেই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যে বলতে পারে সে সরকারের প্রার্থী। কিন্তু কোনো কোনো প্রার্থীর আচরণে মনে হচ্ছে সে সরকারি দলের প্রার্থী। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করি। আমার সন্তানও যদি অন্যায় করে তার পক্ষ আমি নেব না, আমি প্রশাসনকে সহায়তা করব। কিন্তু প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হতে হবে।
হরিণ মার্কার প্রার্থী শাহ্ আলম বলেন, যার ভোট সে দেবে, এ আশায় সবাই বুক বেঁধে আছে। কিন্তু সে পরিবেশ যদি সৃষ্টি না হয় বাংলাদেশে আর কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। প্রশাসনের কর্মকর্তারা যারা এখানে বসে আছেন তাদের কাছে মৌখিকভাবে বলেছি, এ ছাড়া আপনাদের গোয়েন্দা সংস্থা আছে। প্রহসনের নির্বাচন যাতে না হয়। আমাদের লোকজনকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, আল্লাহ্ ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই জাতি নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে। তাই ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে আমাদেরই সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এজন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যে নির্যাতন ও নিষ্পেষণ চালানো হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদ যেন নতুন মুখোশ পরে আবার ফিরে আসতে না পারে, সে সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। আজ আমাদের সামনে একটি সোনালি সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগাতে হবে।
সভায় আরও ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, জাসদের প্রার্থী মো. সুলাইমান, সিপিবির প্রার্থী ইকবাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী সেলিম আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, আপনারা মৌখিকভাবে যে অভিযোগগুলো আমাদের জানিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই আমরা কাজ শুরু করেছি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, সম্ভব হলে লিখিত অভিযোগ প্রদান করবেন। কারণ, আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রমাণ ও এভিডেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-সাইমুন










