চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন) জন্য নির্ধারিত জায়গায় দেশের প্রথম ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (ডিআইজেড) বা প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজে) প্রায় ৮৫০ একর জমিতে এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে এখানে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে। এই শিল্পাঞ্চলের মূল লক্ষ্য হলো- অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা উপকরণের দেশীয় চাহিদা মেটানো এবং বিশ্ববাজারে সমরাস্ত্র রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, ৮৫০ একরের এই জায়গাটি গত বছরের জুন পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সমঝোতা বাতিল হওয়ায় এখন তা প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বুলেট বা ট্যাঙ্কের এক্সেলের মতো প্রতিরক্ষা উপকরণ উৎপাদন খুব উচ্চপ্রযুক্তির কাজ নয়। বিশ্ববাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই ডিআইজেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বেজার সভায় প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল ছাড়াও আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬৫০ একর জমিতে দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এখানে কাস্টমসের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই পণ্য মজুত ও পুনঃরপ্তানি করা যাবে। বিশেষ করে মার্কিন তুলার মজুত গড়ে তুলে এখান থেকে দেশীয় চাহিদা মেটানো ও বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।
কুষ্টিয়া সুগার মিলের অব্যবহৃত ২০০ একর জমিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও উন্নত অবকাঠামো সমৃদ্ধ একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়ে আসলে বিনিয়োগকৃত পুঁজির ওপর ১.২৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিডার (BIDA) শাখা অফিস খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (মিডা) অধীনে দ্রুত এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল চালু এবং একটি ফিশ প্রসেসিং কেন্দ্র স্থাপনের পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপগুলো দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।