খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় বিষটোপ খেয়ে এক গৃহবধুর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, যৌতুকের দাবিতে স্বামীর ধারাবাহিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই ওই গৃহবধু আত্মহত্যা করেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধুর নাম নাজমা আক্তার(৩০)। তিনি একই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের কন্যা। আট ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে নাজমা ছিলেন সবার ছোট। তার বিয়ে হয় কান্দিপাড়া গ্রামের পূর্বপাড়ার মুসলিম উদ্দিনের ছেলে, সিএনজি চালক মো. হেলাল মিয়ার সঙ্গে।
নাজমা ও হেলাল দম্পতির সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের বড় মেয়ে রিয়া মনি শারীরিক প্রতিবন্ধী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নাজমা আক্তার কেরির বড়ি (বিষটোপ) খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই মো. সেলিম অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনকে তার স্বামী প্রায়ই বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য মারধর ও মানসিক নির্যাতন করত। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।”
নিহতের ভাতিজা মো. জুনায়েদ বলেন, “বিষটোপ খাওয়ার পর আমার ফুফু অজ্ঞান হয়ে পড়লেও প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা তাকে বাড়িতেই ফেলে রাখা হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জমির আলী বলেন, “মৃত্যুর খবর শুনে আমি তাদের বাড়িতে আসি। এর আগে তাদের পরিবারের মধ্যে বড় কোনো কলহের কথা আমার জানা ছিল না।”
নাসিরনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) কৃষ্ণ লাল ঘোষ বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা অবগত হইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-সাইমুন










