নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা পরবর্তী সরকারের সঙ্গে গতিশীল অংশীদারত্ব এবং ইতিবাচক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে রাশিয়া এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ–রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ ও রাশিয়া বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং উভয় দেশের স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তিনি স্মরণ করেন, সোভিয়েত ইউনিয়নই প্রথম নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করেছিল।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে শক্তি, বাণিজ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগসহ বহুমুখী অংশীদারত্ব বিদ্যমান। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। কৃষিপণ্য, খাদ্য ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের অন্যতম শীর্ষ সরবরাহকারীও রাশিয়া। বন্ধুত্ব ও সংহতির নিদর্শন হিসেবে চলতি সপ্তাহে রাশিয়া বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন সার উপহার দিয়েছে বলে জানান তিনি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। রাশিয়ান ঠিকাদাররা কঠোর নিরাপত্তা, মান ও পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বাধুনিক প্রকৌশল সমাধান প্রয়োগ করছে। প্রকল্পটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়া দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রেখেছে। বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক রাশিয়া–বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতার প্রসঙ্গে আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত রাশিয়ান হাউস ছিল বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রতি বছর রাশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি প্রদান করে থাকে। ব্যাপক আগ্রহের কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষে বৃত্তির আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০ করা হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক সংখ্যা।
-এমইউএম










