তারেক রহমানকে বরণ করতে রাত থেকেই চট্টগ্রামে মানুষের ঢল

“একসময় শহীদ জিয়াকে ফুল দিয়ে বরণ করেছি, বেগম জিয়াকেও বরণ করেছি; আজ ২০ বছর পর তারেক রহমানকেও বরণ করে নেব।” ৬০ ছুঁই ছুঁই আবদুল হালিমের এই আবেগঘন কণ্ঠই বলে দিচ্ছে দীর্ঘ দুই দশক পর বন্দরনগরীতে বিএনপি চেয়ারম্যানের আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটা তুঙ্গে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশের মূল সময় দুপুরে হলেও অনেক নেতা-কর্মী গত রাতেই চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে আসা মাইকেল চাকমা জানান, তারেক রহমানের নির্বাচনী দিকনির্দেশনা শুনতেই তিনি এক দিন আগেই চলে এসেছেন। আজ ভোরে ফজরের নামাজের পরই সমাবেশস্থলে ভিড় জমান চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেকেই মাদারবাড়ী বা টাইগারপাস এলাকা থেকে ৩-৪ কিলোমিটার হেঁটে পলোগ্রাউন্ডে পৌঁছেছেন।
২০০৫ সালের পর আজই প্রথম বড় কোনো প্রকাশ্য জনসভায় চট্টগ্রামে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। গত ৯ জানুয়ারি তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করার পর দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর। দীর্ঘ সময়ের এই বিরতি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে, তার প্রমাণ মেলে বেলা ১১টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়া বিশাল পলোগ্রাউন্ড মাঠ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পলোগ্রাউন্ডের মূল মাঠে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ ইউসুফ চৌধুরী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। দ্বিতল এই সড়ক থেকে মূল মঞ্চ স্পষ্ট দেখা যাওয়ায় সেখান থেকেই নেতার ভাষণ শোনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সমর্থকরা। ঢাকঢোল বাজিয়ে, ধানের শীষ হাতে নিয়ে এবং নির্বাচনী প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল পুরো টাইগারপাস ও আশপাশের এলাকাকে মিছিলে মিছিলে উত্তাল করে তুলেছে।
তৃণমূল নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি জনসভা নয়, বরং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে বিএনপির শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। নগরীর আকবর শাহ থানা যুবদল নেতা মনসুর আহমেদের ভাষায়, “তারেক রহমানের আগমনে চট্টগ্রামে যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে, তা আজ লাখো মানুষের ঢল থেকেই প্রমাণিত।”
চট্টগ্রামের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে আরও পাঁচটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন:
বিকাল ৪:০০ টা: ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠ।
বিকাল ৫:৩০ টা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ।
সন্ধ্যা ৭:০০ টা: কুমিল্লার সুয়াগাজী ডিগবাজি মাঠ।
সন্ধ্যা ৭:৩০ টা: কুমিল্লার দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ।
রাত ১১:৩০ টা: নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠ।

 

লামিয়া আক্তার