তিন জেলায় নির্বাচনি সংঘর্ষে আহত ৪২

দেশের তিন জেলায় নির্বাচনি সংঘর্ষে আহত ৪২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মিছিলে হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় পাঁচজন আহত হন বলে জানা গেছে।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কিশোরগঞ্জ : শুক্রবার  সন্ধ্যায় অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জানা গেছে, ভাতশালা গ্রামে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সমর্থনে নির্বাচনি জনসভা চলছিল। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি জনসভায় অনুপস্থিত ছিলেন।

জনসভাটির শেষ পর্যায়ে কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম কিসমতের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় চেয়ারে বসা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। তা  একপর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে  রূপ নেয়।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েব খান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ : আহত সবাইকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টায় গজারিয়া উপজেলার সোনালী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিনের সমর্থনে আমরা মিছিল বের করি। মিছিলটি গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে সোনালী মার্কেট এলাকায় এলে ২০-২৫ জন রতন সমর্থক লাঠিসোটা হাতে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, আমি আজ মুন্সীগঞ্জ শহরে প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। যারা এ কাজ করেছে, তারা খুব খারাপ কাজ করেছে। এর দায়ভার আমি বা আমার দল নেব না।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গৌরনদী (বরিশাল) : ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতিতে উভয় পক্ষের পাঁচ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে গৌরনদী উপজেলার শরিকল হাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান বলেন, আমার ১২-১৪ কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে আমি শুক্রবার দুপুরে শরিকল হাটে  নির্বাচনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ  করতে থাকি। এ সময় ধানের শীর্ষ প্রতীকের প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম জহিরউদ্দিন স্বপনের কর্মী গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন কর্মী-সমর্থক  আমাদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে বাধা দেয়। এ  ঘটনার প্রতিবাদ করলে ধানের শীষের কতিপয় কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়ে আমার কর্মী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ফকির ও তার সহোদর ভাই আনিস ফকির, বিএনপির কর্মী কালাম খান, অ্যাডভোকেট মো. শাহিনকে মারধর করে তারা। আহত অবস্থায় বিএনপি নেতা শাহ আলম ফকিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গৌরনদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বিপ্লব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারেক জিয়ার ছালাম নিন, ফুটবল মার্কায় ভোট দিন- এ কথা বলে শরিকল বাজারে লিফলেট বিতরণ করছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান ও তার কয়েকজন কর্মী-সমর্থক। এ কথা বলার প্রতিবাদ করলে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে সোবাহানের কর্মীর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ধানের শীষের কর্মী মো. মাকসুদুর আহত হয়

-সাইমুন