ভোটের মাঠে ‘বিদ্রোহী’ হওয়ায় ৫৯ নেতাকে বিদায় বিএনপির

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অপরাধে সারা দেশের ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন ঘিরে এ পর্যন্ত মোট ৭২ জন নেতাকে বহিষ্কার করল দলটি।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসন এবং দলের নির্ধারিত প্রার্থীর বিপক্ষে যাঁরা স্বতন্ত্র বা অন্যভাবে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের বারবার সতর্ক করার পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বুধবার রাতে একযোগে এই বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।
বহিস্কৃতদের নামের তালিকা: 
ঢাকা বিভাগ
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ আসনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ আসনের অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, নরসিংদী-৫ আসনের মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের মো. মুমিন আলী ও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের মো. মহিউদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়। মাদারিপুর-১ আসনের লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২ আসনের মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ আসনের নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ আসনের এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, নোয়াখালী-২ আসনের কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ আসনের প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আসনের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন ও চাঁদপুর-৪ আসনের এম এ হান্নান বহিষ্কৃত হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগ
নওগাঁ-৩ আসনের পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ আসনের তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ আসনের দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ আসনের ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ আসনের কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ আসনের জাকারিয়া পিন্টুকে বহিষ্কার করা হয়।
খুলনা বিভাগ
কুষ্টিয়া-১ আসনের নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ আসনের মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ আসনের অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ ও বাগেরহাট-৪ আসনের খায়রুজ্জামান শিপন বহিষ্কৃত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল-১ আসনের আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ আসনের মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগ
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ আসনের মামুনুর রশীদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ আসনের শেখ সুজাত মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগ
দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগ
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ আসনের এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ আসনের মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোনা-৩ আসনের মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং শেরপুর-৩ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ বহিষ্কৃত হয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দল এখন একটি বড় রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে দলের সংহতি নষ্ট করা এবং শরিকদের আসনগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা চরম অসদাচরণ। তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইলে দলে তার কোনো স্থান নেই।
লামিয়া আক্তার