দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা (সহকারী জজ) নিয়োগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন’-এর চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন এসেছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, যিনি বর্তমানে দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭’-এর বিধি ৩(২)(ক) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। এটি একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ যা বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের আইন পেশার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাসের পর।
আইনজীবী হিসেবে: ১৯৯৪ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
বিচারক হিসেবে: ২০০৪ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০০৬ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। দীর্ঘ ২০ বছর হাইকোর্টে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব তাঁর বিচারিক জীবনে বহু যুগান্তকারী রায় দিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও বিচার ব্যবস্থায় মাইলফলক স্থাপন করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু রায় হলো:
নারী ও শিশু অধিকার: ধর্ষণের শিকার নারীদের মামলা দ্রুত গ্রহণের নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারকে ক্ষতিপূরণের রায়।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য: আজিমপুর কবরস্থান রক্ষার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
শিক্ষা ও নির্বাচন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যানেল শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার রায়।
সাংবিধানিক সংস্কার: পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়েও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বাংলাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার কারণে আইনি অঙ্গনে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










