মিরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে, আহত ১৬

রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ৬০ ফিট রোডের আল মোবারক মসজিদের সামনে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে। এতে অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগরিবের নামাজের পর আল মোবারক জামে মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচারণা এবং ধর্মীয় বয়ান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
কয়েক দফা চলা এই সংঘর্ষে পুরো পীরেরবাগ ও ৬০ ফিট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জামায়াতের আরও নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।
সংঘাতের খবর পেয়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মইনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কার উসকানিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে একই ঘরানার দুই রাজনৈতিক দলের এমন সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে, তবে স্থানীয় বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
লামিয়া আক্তার