সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত একটি হাতি পেছনের দুই পা ও লেজ নড়াতে পারছে না। দুর্ঘটনায় প্রাণীটির মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগায় শরীরের পেছনের অংশ কার্যত অসাড় হয়ে গেছে। হাতিটির চিকিৎসায় নিয়োজিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমদ সোমবার সকালে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মেরুদণ্ডে আঘাতের কারণে হাতিটিকে দাঁড় করানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রাণীটির চিকিৎসা ও সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে ঢাকা থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ সময় একই জায়গায় পড়ে থাকায় হাতিটির পেট ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পরবর্তী জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যদিও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এর আগে শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি আহত হয়ে পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে হাতিটিকে ডোবা থেকে তুলে ডাঙায় আনা হয়।
রোববার দুপুর থেকে হাতিটি ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে এবং সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্র জানায়, হাতিটির মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কামরুল ইসলাম। কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের জন্য হাতিটিকে সিলেটে আনা হয়েছিল। শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মাহুত হাতিটিকে নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মাহুতও আহত হন।
![io]=](https://alokitoshodesh.com/wp-content/uploads/2026/01/io-696x511.png)









