শেরপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে অপহরণ ও গুমের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর, হত্যা ও গুমের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খন্দকার মুন্তাহিদুল আলম লিটন নামের এক চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে একজন সক্রিয় পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুর পৌর এলাকার সজবরখিলাস্থ নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নিজেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে খন্দকার মুন্তাহিদুল আলম লিটন বলেন, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ১১ জানুয়ারি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম , (৪৮) পিতা মোঃ আজিজুর রহমান সাং বাগরাকসা। মোহাম্মদ লালু মিয়া, পিতা- পিংকু রংমিস্ত্রি সাং চাপাতলী। আরো অগ্যত ২০/২৫ জন টাউন হল মোড় থেকে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ট্যাম্প ও ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর আদায় করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর তিনি প্রথমে শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৬৪/২৪।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মামলা দায়েরের পর থেকেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।”

নিজেকে একজন সংস্কৃতিমনা ও শিল্পচর্চায় যুক্ত মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার মুন্তাহিদুল আলম লিটন বলেন, “আমি কখনো কল্পনাও করিনি পারিবারিক বিরোধের কারণে আমাকে এভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় তুলে নিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হবে। একজন শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আমি সমাজে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করে আসছি।”

তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের ও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, “আমি আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার চাই। সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে যেন আমার মতো আর কেউ এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয়—সেটাই আমার প্রত্যাশা।”

 

মোঃ মাকসুদুর রহমান
শেরপুর প্রতিনিধি