বগুড়ায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত বোরো বীজতলা রক্ষার্থে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন

ঘনকুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মতো বগুড়ায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। টানা ঘনকুয়াশায় দেখা মিলছে না সূর্যের। পৌষের শেষের তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরোর বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’তে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কৃষকেরা।

বগুড়ার আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্রতা বাড়াতে তাপমাত্রা আরও কমবে। এমন বার্তায় বীজতলাগুলোতে কোল্ড ইনজুরি আক্রান্তের শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মাঝে।
সরেজমিনে বগুড়া শেরপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বীজতলা ঘুরে দেখা যায়, শীত আর ঘন কুয়াশার প্রভাবে অনেক বীজতলার চারা কিছুটা হলদে বর্ণ ধারণ করছে।

বীজতলায় চারার বয়স হলেও তা ঠিকমতো বাড়ছে না। আবার কোন কোন বীজতলায় ধানের বীজ বপণ করলেও তা প্রয়োজনীয় রোদ ও তাপমাত্রা না থাকায় এখনও গজাতে পারেনি। কোন কোন বীজতলায় আবার চারা বের হলেও তা হলুদ ও লালচে বর্ণ ধারণ করছে। তবে বীজতলার যত্নে কৃষকরা কোন কার্পণ্য করছেন না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বীজতলার নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা বলছেন, ইরি-বোরোর বীজতলায় ধান বীজ বপণের পর আবহাওয়া বেশ ভালো ছিল। তবে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা তাদের শঙ্কায় ফেলেছে। ঘনকুয়াশার কারণে বীজতলায় চারা কাঙ্খিত ভাবে বড় হচ্ছে না। বীজতলার অনেক জায়গায় ধান থেকে চারা বের-ই হয়নি, যেসব বীজ থেকে চারা গজিয়েছে তাও অনেকটা হলদে বর্ণ ধারণ করছে। কৃষকরা চলতি এই বোরো মৌসুমের জন্য ডিসেম্বর মাস থেকেই বীজতলা তৈরীর কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে বীজতলার চারা সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশার প্রভাবে বীজতলা গুলোর ওপর প্রভাব পড়েছে। এই ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার গজানো গাছগুলোর কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে বীজতলার চারাগুলো বৃদ্ধি কম হওয়ার আশংকায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

শেরপুর উপজেলার খিকিন্দা গ্রামের কৃষক গোলাম ফারুক জানান, চলতি মৌসুমে সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে বোরো চাষের চিন্তা ছিলো কিন্তু চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটা আর সম্ভব হবেনা। আমইন গ্রামের কৃষক শাহাদৎ হোসেন, জুলফিকার আলী, শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকালে বীজতলার স্প্রে করেও কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। চারার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে এবং হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। ইরি-বোরো আবাদ নিয়ে এবার চিন্তাগ্রস্তহয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া সূত্র বলছে, প্রতি বছর ইরি-বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি আক্রান্তে ঘটনা খুব স্বাভাবিক। এবার এখন পর্যন্ত কোন বীজতলা প্রচলিত এই সমস্যার কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে আবহাওয়া আরও খারাপ হলে শঙ্কা তৈরি হবে। বগুড়ায় এবার ১০ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে ৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে। আর বীজতলা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক দিনের ঘনকুয়াশায় ইরি-বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। কৃষকরা বীজতলা রক্ষার্থে পলিথিন ব্যবহার করছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ঘনকুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে। কুয়াশা আরও বাড়লে সে ক্ষেত্রে ধানের বীজতলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ঘনকুয়াশার কারণে বীজতলায় ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি ধরে রাখতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, ঘনকুয়াশা আর শীতের কারণে প্রয়োজনীয় সূর্যের আলো না থাকায় বীজতলাগুলোতে কোল্ড ইনজুরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন খবর পাওয়া যায়নি। পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলছেন, এমন অবস্থা তৈরি হলে-প্রতি শতক বীজতলার জন্য ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৪শ’ গ্রাম জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি রাতে বীজতলায় পানি দিয়ে দিনের বেলায় তা বের করে দিতে হবে। এছাড়াও রাতের বেলা বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। চলতি বছর বগুড়ায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৬ মেট্রিকটন।

-শফিকুল ইসলাম বাবলু

বগুড়া