মনপুরায় তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রেমিককে বেঁধে রেখে নির্যাতন

বিয়ের জন্য প্রেমিকের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ভোলার মনপুরায় গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছরের এক তরুণী। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার একটি বেড়িবাঁধে প্রেমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের বাসিন্দা ওই তরুণী এবং মনপুরার বাসিন্দা তার প্রেমিক দুজনই চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কাজ করেন। বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য তারা লঞ্চযোগে মনপুরায় যান। তরুণীকে প্রেমিক তার দাদির বাড়িতে রাখেন।

কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অজুহাতে তাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় চক্রটি।

যেভাবে ঘটে ধর্ষণের ঘটনা
ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের জোর করে লঞ্চে তুলে চট্টগ্রামে পাঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। কিন্তু লঞ্চে না তুলে তাদের তালতলী বেড়িবাঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘নৌবাহিনী আসছে’ ভয় দেখিয়ে তাদের বাঁধের নিচে নামানো হয়।

এরপর প্রেমিককে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তরুণীর মুখ চেপে ধরে দুই-তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। পরে তরুণীকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা স্থানীয় গিয়াসউদ্দিন, আলমগীর মাঝি, ইদ্রিস মাঝি, আল-আমিন ও মাকসুদ নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে শুক্রবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”


মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক