নবাব স্যার সলিমুল্লাহর শাহাদাত বার্ষিকীতে ছাত্রপক্ষের শ্রদ্ধা

তৎকালীন পূর্ব বাংলার অধিকার আন্দোলনের অগ্রনায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১১তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির এই সূর্যসন্তানকে স্মরণ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে।

সংগঠনটির সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম আবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন উপমহাদেশের রাজনৈতিক জাগরণ ও শিক্ষাভিত্তিক অধিকার আন্দোলনের এক অনন্য সংগ্রামী নেতা। তার নেতৃত্ব, সাহস ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আজও শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রেরণা জোগায়।

শিক্ষা ছিল রাজনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার
বিবৃতিতে বলা হয়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ শিক্ষাকে তার রাজনৈতিক মুক্তির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মুসলিম সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আত্মমর্যাদাশীল নেতৃত্ব সৃষ্টিতে তার অবদান ইতিহাসে অনন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীতে এই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন না থাকায় ক্ষোভ
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ আরও জানায়, বাংলার নিম্নবিত্ত মুসলমান, কৃষক ও প্রজাদের কল্যাণে যিনি সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তার জন্ম বা শাহাদাত বার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় কোনো আয়োজন না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারীদের ঘিরে নানা আয়োজন নিয়মিতই দেখা যায়।

বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বড়লাটের নিরাপত্তা প্রহরীর গুলিতে আহত হয়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ শাহাদাত বরণ করেন।

বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের মতে, আজকের রাষ্ট্রীয় সংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।


মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক