১৩ বছর পর অনিশ্চয়তায় বিআরটি: কাজ নেই, তবু আছে কোম্পানি

গাজীপুর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিশেষায়িত বাস চলাচলের (বিআরটি) স্বপ্ন ১৩ বছরেও ডানা মেলতে পারেনি। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালে এসেও তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পর এখন বিশেষায়িত বাস চালানোর মূল পরিকল্পনাটিই বাতিলের পথে। তবে কাজ না থাকলেও ঠিকই টিকে আছে এর জন্য গঠিত ‘ঢাকা বিআরটি কোম্পানি (পিএলসি)’।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিআরটি করিডোরে বিশেষ ইলেকট্রিক বাস চালানোর ব্যয়বহুল ধারণা থেকে সরে এসেছে। এর পরিবর্তে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত চার লেনের সড়কটি সব ধরনের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও স্টেশনগুলোর ফিনিশিং, ফুটপাত, এসকেলেটর এবং গত ৫ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিভিন্ন অংশের মেরামত কাজ এখনো বাকি। পরিকল্পনা কমিশন এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব ফেরত দিয়েছে।
শুরুতে ২ হাজার ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় বর্তমানে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় ঠেকেছে। ২০ কিলোমিটারের এই পথে ১৬ কিলোমিটার সমতলে এবং ৪ কিলোমিটার উড়াল পথ। দীর্ঘ ১৩ বছর দেরি হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক বিভাগ, সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) এবং এলজিইডির মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “১৩ বছর পর করিডোর ধারণা বাতিল করা বড় ধরনের নীতিগত ব্যর্থতা। সময়ের কাজ সময়ে না হওয়ায় এর অর্থনৈতিক উপযোগিতা হারিয়েছে।”
বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত ‘ঢাকা বিআরটি কোম্পানি (পিএলসি)’ বর্তমানে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মী নিয়ে চলছে। গত ১২ বছরে বাস কেনা বা আইটিএস সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো কোনো মূল কাজই তারা করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মু. নুরুল আমিন খান জানান, সরকারই ঠিক করবে এই কোম্পানির ভবিষ্যৎ কী হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষায়িত লেনে শুধু বিআরটি বাস চললে অন্য লেনে যানজট আরও বাড়বে। ফলে প্রকল্পটি চালু হলেও যানজট নিরসনে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন জানিয়েছেন, সরকার কাজ শেষ করে পথটি সাধারণ যানবাহনের জন্য খুলে দিতে চায়। তবে বিআরটি করিডোর বা কোম্পানি এখনই বিলুপ্ত করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যদি বিশেষায়িত বাস চালাতে চায়, সেই সুযোগ রাখা হচ্ছে। প্রকল্পের তহবিলের অবশিষ্ট ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিয়েই বাকি কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গাজীপুরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সড়কটি শেষ পর্যন্ত সাধারণ যানজটমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
লামিয়া আক্তার