বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর পূর্ণাঙ্গ রায়।
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায় ঘোষণার ৫৭ দিন পর আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই বিশাল রায়ের অনুলিপি আপলোড করা হয়।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল যে আদেশগুলো দিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গণহত্যার নির্দেশ ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকার জন্য আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল এই দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামির যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন এবং সাবেক আইজিপি ও এই মামলার অন্যতম আসামি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক। তারা দেশের বাইরে অবস্থান করায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে। ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ে জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, রায়টি অনলাইনে প্রকাশের ফলে এখন দেশ-বিদেশের যে কেউ এই ঐতিহাসিক বিচারের বিস্তারিত আইনি ভিত্তি ও তথ্যপ্রমাণ সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।
-এম. এইচ. মামুন










