বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশের ন্যায় বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই মধ্যে শিবগঞ্জ দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৭ জনের মনোনয়ন উত্তোলন ও দাখিল করতে দেখা যায়। কিন্তু বিএনপির জোট ও একক প্রার্থী শিবগঞ্জ নির্বাচনী মাঠে শীর্ষ ২ নেতাকে নিয়ে উপজেলাবাসীর মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই। ২০১৮ সালে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষ মার্কা প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে এ আসনটি ছেড়ে দেন। সেই ধারাবাহিকতার পথ এবারও চেয়ে আছেন মান্না।
গত (২৪ ডিসেম্বর( গুলশান বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছে জাতীয়তাবাদী দল বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ গোছানোর চেষ্টায় আছেন কিন্তু একই আসনে বিএনপির এই ২ প্রার্থী নিয়ে উপজেলা জুড়ে ভোটারদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করতে এসে এবার তিনি আইনি জটিলতায় আক্রান্ত। সেজন্য তার নির্বাচনী আসনে বিএনপি বিকল্প হিসেবে মীর শাহে আলমকেও বহাল রেখেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার পরপরই বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না কিন্তু প্রতিটি পদে পদে ছিল বাঁধা। শুরুতেই ঋণ খেলাপি জটিলতায় আটকে পড়েন মান্না। ২৪ (ডিসেম্বর) ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
এরপর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে চেম্বার বিচারপতির আদেশ ও রায়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মান্নার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। এর রেশ কাটতে না কাটতেই (২জানুয়ারী) বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) হলফনামায় তথ্য গোপন ও নথিপত্রে অসংগতির কারণে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন, বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান। পরে বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন মান্না। সেই আপিলেও মান্না উত্তীর্ণ হয়ে রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মান্নার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে “আলোকিত স্বদেশ” শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমি এর আগেও বিএনপি থেকে শিবগঞ্জ এ আসন নির্বাচন করেছি”। “এবারও বিএনপির জোট থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। আমাকে নিয়ে অনেক গুজব ছাড়ানো হচ্ছে এবং ষড়যন্ত্র করে বার বার আইনী প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী পথকে বাধাঁ প্রদান করা হচ্ছে।”
যতই ষড়যন্ত্র হোক তারপরও তিনি সকল বাঁধা মোকাবেলা করে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসন ছাড়তে অনড় বলে জানিয়েছেন। এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমের সাথে কথা বললে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “আমি দীর্ঘ দিন থেকেই শিবগঞ্জের মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেই”। “বিএনপির রাজনৈতিতে আমি নতুন কোন অতিথি পাখি নই, শিবগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম- পাড়া মহল্লা সবই কিছুই আমার চেনাজানা। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে আমি এখানে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী।”
শিবগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে ৭ জন এমপি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মাঝে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনী এলাকায় চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ। দিন যতই যাচ্ছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। শিবগঞ্জ নির্বাচনী মাঠে তফসিল ঘোষণার আগে থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম সভা-পথ সভা গণসংযোগ প্রচার- প্রচরনা ও উঠান বৈঠকে শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন দলের মনোনীত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা পাড়ায় মহল্লায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
তবে শিবগঞ্জ আসনে সবচেয়ে যে আলোচনার ঝড় বইছে কে হচ্ছে বিএনপির একক প্রার্থী? দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে এলেও শিবগঞ্জের মানুষের মাঝে এ উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তিছুতেই কাটছে না।
-গোলাম রব্বানী শিপন
মহাস্থান (বগুড়া) শিবগঞ্জ










