বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। মূল এডিপির তুলনায় এবারের সংশোধিত কর্মসূচির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বরাদ্দ ও অর্থায়ন: অনুমোদিত ২ লাখ কোটি টাকার আরএডিপির মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা (৬৪%) অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা (৩৬%) বৈদেশিক উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে। মূল এডিপিতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ উভয় খাতেই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নসহ আরএডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার: সংশোধিত কর্মসূচিতে পাঁচটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গৃহায়ন, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে মোট বরাদ্দের ৬০.৫৪ শতাংশ বা ১ লাখ ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে শীর্ষস্থানে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
প্রকল্পের পরিসংখ্যান ও জলবায়ু গুরুত্ব: আরএডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩০টি। এর মধ্যে ২৮৬টি প্রকল্প ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ১৭০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের ৮১টি প্রকল্প এতে স্থান পেয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, দেশের বিদ্যমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রবাহ বিবেচনা করে এই সংশোধন করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়ন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে সরকার।