মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ, ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের প্রতিবাদ

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবিতে মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকা হাতে মিছিলটি উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হয়। তবে মিছিলটি কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর কনফিডেন্স শপিং সেন্টারের সামনে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। সেখানেই পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দের তীব্র নিন্দা
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রীকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিকৃষ্ট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের নির্লজ্জ প্রকাশ। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা পৃথিবীর জনগণ এর প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ করছে।”

আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য তেল সম্পদ দখল
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে হুগো শ্যাভেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খল ছিন্ন করে স্বাধীন জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলে এবং নিজেদের তেল সম্পদ জাতীয়করণ করে। মাদুরো সরকারও সেই নীতি অনুসরণ করছিল। কথিত মাদকের অজুহাতে এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল, স্বর্ণসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদ দখল করা এবং জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তন করা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই আগ্রাসী উদ্দেশ্য সফল হবে না। ভিয়েতনাম, ইরাক, লিবিয়ার মতো ভেনেজুয়েলাতেও তারা সফল হতে পারবে না। তারা বিশ্বের সকল গণতন্ত্রমনা জনগণকে সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।