গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের লক্ষ্যে সরকার ও দলগুলোর ব্যাপক প্রচারণা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজপথের প্রধান দল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ সমমনা দলগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ’ ও ‘সংস্কারের রক্ষা কবজ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গণভোটে ‘না’ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সংস্কার বিষয়ে যে গণভোট হচ্ছে, সেগুলো আমরাই বহু আগে ৩১ দফার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছিলাম। এখানে ‘না’ বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।” গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও এই অবস্থান প্রচার করা হয়। দলটির হাইকমান্ড জানিয়েছে, তৃণমূলের কেউ ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালালে সেটি দলের অবস্থান নয়।
মাঠে নেমেছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গণভোটের প্রচারণায় সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার শুরু করেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা। এনজিওগুলোকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বৈরাচার হতে না পারে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়, সেজন্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করতে হবে।” আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানান, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে সারাদেশের মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয় থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হবে।
ঐক্যবদ্ধ জামায়াত-এনসিপি ও সমমনা দলগুলো: নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১টি দল মাঠপর্যায়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা শুরু করেছে। এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “ভোটারদের বোঝাচ্ছি, নির্বাচন আসবে-যাবে; কিন্তু গণভোট একবারই। স্বৈরাচার প্রতিরোধে সংস্কারের বিকল্প নেই।” জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকিও সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
গণভোটে যা থাকছে: গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে উল্লেখিত ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর ভোটাররা একটি প্রশ্নের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত এমপিদের নিয়ে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে।
–লামিয়া আক্তার