‘দুর্ঘটনার আগে বাস চালকের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া হয়’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন।

নিহতদের মধ্যে দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকার শামীম আহমেদ (৪০) ও তার ৬ বছর বয়সী ছেলে নাদিভ আহমেদ রয়েছেন। তারা দুপুরে মোটরসাইকেলে করে বানিয়াপাড়া দরবার শরিফে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। অন্য নিহতদের মধ্যে ১৮ মাস বয়সী শিশু হুসাইন ও একজন নারী রয়েছেন। হুসাইন তার বাবার সাথে ওই বাসে করে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেনী যাচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ফেনীগামী বাসটি বানিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে প্রথমে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি খাদে পড়ে যায়। এরপর বাসটি একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে সেটির ওপর উঠে যায়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, বাসটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে সেটির জ্বালানি ট্যাংক ফেটে যায়। রাস্তায় ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকে মুহূর্তেই পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই চারজন দগ্ধ হয়ে মারা যান।

দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো বাসের যাত্রী সুমন অভিযোগ করেন, চালক প্রথমে বাসটি খুব ধীরগতিতে চালাচ্ছিলেন এবং যেখানে-সেখানে লোক তুলছিলেন। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও সুপারভাইজারের ঝগড়া হয়। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে চালক ক্ষুব্ধ হয়ে হঠাৎ বাসের গতি বাড়িয়ে দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমন বলেন, “চালকের খামখেয়ালিতে আমি আমার কলিজার টুকরোকে হারালাম।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, হাসপাতালটিতে মোট ২৬ জনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারজন মৃত ছিলেন। গুরুতর দগ্ধ ও আহত ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক এরশাদ হোসেন বলেন, “মোটরসাইকেলের অকটেন ছড়িয়ে পড়ার কারণেই আগুন দ্রুত বাসে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে হয়তো যাত্রীরা দ্রুত নামতে পারেননি। তবে আমরা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছি।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক বাসটিকে উদ্ধার করে ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

-এম. এইচ. মামুন