নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি জেলে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে বাংলাদেশ–মায়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরিবারের দাবি, মায়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু।

আহত জেলের নাম মো. আলমগীর (৩০)। তিনি হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং সৈয়দ আহমদের ছেলে।

ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় আলমগীরের হাতে গুলি লাগার খবর তিনি পেয়েছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চলছে।

আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে থাকা সহযোগী দ্রুত নৌকাযোগে তাঁকে নদীর তীরে নিয়ে আসেন। এরপর প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে আলমগীর এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যান। নদীর মাঝামাঝি এলাকায় বিলাসীর দ্বীপসংলগ্ন জলসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ মায়ানমারের দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যেই একটি গুলি এসে তাঁর বাম হাতে লাগে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে গুলিটি কারা ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত বর্তমানে তীব্র রূপ নিয়েছে। জান্তা বাহিনী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরআরএসও) এবং নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল।

এই সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাফ নদীর বুকে অবস্থিত তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া ও হসের দিয়া নামের কয়েকটি দ্বীপ এলাকায় নিয়মিত গোলাগুলি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এর আগেও গত ১৩ ও ২৫ ডিসেম্বর সংঘর্ষ চলাকালে মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে হোয়াইক্যং এলাকার কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

সাবরিনা রিমি/