ঢাকার গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব আধুনিক প্রধান কার্যালয় নির্মাণ করতে যাচ্ছে সিটি ব্যাংক। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে ব্যাংকটি। সর্বশেষ গত বুধবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় ভবন নির্মাণ এবং অতিরিক্ত ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
ব্যাংক সূত্র জানায়, গুলশান অ্যাভিনিউয়ে বিদ্যমান ২০ কাঠা জমির সঙ্গে পাশের আরও ২০ কাঠা জমি যুক্ত করে মোট ৪০ কাঠার ওপর ২৮ তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন করে কেনা ২০ কাঠা জমির পেছনে ব্যয় হবে প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা। আর পুরো জমির ওপর ভবন নির্মাণে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। জমি কেনা ও নির্মাণ মিলিয়ে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়েছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার অনুমোদন দেয়, যার পর পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে গুলশানে ২০ কাঠা জমির ওপর আটতলা ভবনে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ছিল। জনবলের সংকুলান না হওয়ায় সেই ভবন ভেঙে নতুন ২৮ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন ভবনে পাঁচ তলা থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য এবং বাকি ২৩ তলায় পরিচালিত হবে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম। জমির পরিমাণ বাড়ায় ভবনের পরিসর আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, বিশ্বমানের নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন ব্যাংক ভবনের উদাহরণ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় গুলশানের একটি ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে সেখানে স্থায়ীভাবে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে। সিটি ব্যাংকের কর্মীর সংখ্যা বর্তমানে ৭ হাজার ১০০-এর বেশি। দেশজুড়ে রয়েছে ১৩৪টি শাখা ও ৭০টি উপশাখা।
আর্থিক দিক থেকেও ব্যাংকটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে সিটি ব্যাংক প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করে, যেখানে সমন্বিত মুনাফা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় যা প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি। দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে মুনাফার দিক থেকে সিটি ব্যাংক বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
আফরিনা সুলতানা/










