‘এত ঠান্ডা হইলে বাঁচমো কেমনে’: হাড়কাঁপানো শীতে চরবাসীর চরম ভোগান্তি

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হাড়কাঁপানো শীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। মাঝে মধ্যে সূর্য উঁকি দিলেও তাতে নেই কোনো উত্তাপ; অল্প সময় পরেই তা আবার মেঘ ও কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।
তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার বার্তা কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ ভাগ। এমন পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন বিরাজ করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
দুর্ভোগে শ্রমজীবী মানুষ শীতের প্রকোপে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়িতে হু হু করে ঢুকছে ঠান্ডা বাতাস। সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “খড়ের ঘরে থাকি, বাতাস রাইতে ও দিনে হুহু করে ঢুকে মোক কাবু করছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট হইছে। হামরা গরিব মানুষ, এতো ঠান্ডা হইলে বাঁচমো কেমনে?”
পেশায় রিকশাচালক নুরুল হক জানান তার কষ্টের কথা। তিনি বলেন, “সকালবেলা রিকশা নিয়ে বের হতে পারি না, ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। রাস্তায় যাত্রীও কম, ফলে আয়-রোজগার নাই বললেই চলে। শীত আসলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।”
হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর ভিড় তীব্র ঠান্ডার কারণে জেলায় সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, আমাশয় ও ডায়রিয়াজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে চলছে। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেক রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার গুরুতরদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।”
সরকারি ত্রাণ তৎপরতা শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শীতার্ত মানুষের তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
–লামিয়া আক্তার