দেশের অভ্যন্তরে চলাচলকারী এবং আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের জ্বালানি জেট এ-১ (জেট ফুয়েল)-এর দাম একলাফে লিটার প্রতি ৯ টাকা ৬৮ পয়সা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল বুধবার বিকেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নতুন এই মূল্য বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকেই কার্যকর হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের নতুন দর বিইআরসি-র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা ৬৮ পয়সা কমানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে প্রতি লিটার জ্বালানি ১০৪ টাকা ৬১ পয়সার পরিবর্তে ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা দরে কিনতে পারবে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০.০৬২৯ মার্কিন ডলার কমানো হয়েছে। আগের নির্ধারিত মূল্য ০.৬৮৭৫ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ০.৬২৪৬ মার্কিন ডলার।
কেন এই দর পতন? বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে এই সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘প্ল্যাটস রেট’ (Platts Rate)-এর গড় মূল্য বিবেচনায় নিয়ে জানুয়ারি মাসের জন্য এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণ করে আসছে।
ভাড়া কমার সম্ভাবনা এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি উড়োজাহাজের মোট পরিচালন ব্যয়ের (Operating Cost) ৪০ থেকে ৪৬ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানি খাতে। জেট ফুয়েলের দাম এই হারে কমায় এয়ারলাইন্সগুলোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই দাম নির্ধারণ করলেও বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে সেই ক্ষমতা বিইআরসির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।