পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা জামায়াতের নায়েবে আমিরের

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অতীতের মতো আবারও ‘পাতানো’ হয় কি না, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দলটির নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এই আশঙ্কার কথা জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রশাসন যেভাবে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে, তাতে আমাদের মনে এই সন্দেহ দানা বাঁধছে যে, আগামীর নির্বাচনটি আবারও অতীতের মতো পাতানো হবে কি না।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের কোনো পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। তাই তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে দেশ রক্ষার আহ্বান জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এই বৈঠকে মূলত চারটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: জামায়াত নেতারা গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাবকে দায়ী করেছেন। ইইউ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে। জামায়াত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে অংশীজনদের নিয়ে এই সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। জামায়াত শুরু থেকেই সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসছে, যা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে জামায়াত নেতারা উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নায়েবে আমির স্পষ্টভাবে বলেন, যদি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীরতর হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য যে, ইইউ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।

নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে জামায়াতের এই ‘পাতানো নির্বাচনের’ শঙ্কা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম, অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এই উদ্বেগ আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী মাঠের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

-এম. এইচ. মামুন