এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: জ্বালানি মন্ত্রণালয়

দেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কোনো ঘাটতি নেই এবং বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ (রোববার) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাজার নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠক
মন্ত্রণালয় জানায়, খুচরা পর্যায়ে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির বিষয়টি নজরে আসার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আজ বিকেলে জ্বালানি সচিবের সভাপতিত্বে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অপারেটরদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আমদানি বাড়লেও কৃত্রিম সংকট
বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দেশে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছিল। অথচ ডিসেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বাড়া সত্ত্বেও বাজারে সরবরাহ কমার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

আমদানিকারক ও অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ মাসে এলপিজির দাম বাড়াতে পারে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ
এদিকে আজ সন্ধ্যায় বিইআরসি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১,২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের পদক্ষেপ ও মোবাইল কোর্ট
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এলপিজি আমদানিতে এলসি (LC) সহজীকরণ এবং ভ্যাট হ্রাসের মতো আমদানিকারকদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির ফলে দ্রুতই এলপিজির দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।