দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং টিকিটের কৃত্রিম সংকট ও অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। গত ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধ্যাদেশ জারি করেন।
ব্যাংক গ্যারান্টিতে বড় পরিবর্তন
নতুন অধ্যাদেশে অনলাইন ও অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী:
-
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA): ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ ১ কোটি টাকা।
-
অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সি: ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ ১০ লাখ টাকা।
টিকিট জালিয়াতি ও ‘ফলস বুকিং’ নিষিদ্ধ
টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অন্য কোনো এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় (B2B) করতে পারবে না। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে লেনদেন করা যাবে না।
গ্রাহক স্বার্থ ও অভিবাসী সুরক্ষা
গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে বাঁচাতে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে:
-
মিথ্যা প্রলোভন বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করা যাবে না।
-
অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট কেনা-বেচা করা যাবে না।
-
টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
কঠোর শাস্তি ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
আইন লঙ্ঘন করলে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর জালিয়াতি বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে।
নিবন্ধন ও নবায়নের নতুন নিয়ম
-
প্রতি ৩ বছর অন্তর নিবন্ধন সনদ নবায়ন করতে হবে।
-
প্রতি বছর সরকারকে আর্থিক বিবরণীসহ কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
-
কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।










