টানা চার দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের জনজীবন। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বর্তমানে দেশের দুই বিভাগসহ মোট ২১টি জেলায় মাঝারি ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬টি জেলা এবং মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, এই পরিস্থিতি আরও দুই-এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী ৩ বা ৪ জানুয়ারির দিকে কুয়াশা আরও ঘন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এক নজরে বিভিন্ন স্থানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াসে):
-
গোপালগঞ্জ: ৭.৫
-
যশোর: ৭.৮
-
চুয়াডাঙ্গা: ৮.০
-
রাজশাহী: ৮.৪
-
খুলনা ও ভোলা: ৮.৫
-
ঢাকা: ১৬.০
শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা। এক দিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা ১২.৮ ডিগ্রি থেকে কমে ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমেছে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটারে নেমে আসায় মহাসড়কে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
তীব্র ঠান্ডায় ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের চারা রোপণ। চুয়াডাঙ্গা ও পাবনার ঈশ্বরদীতে বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়ায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন। কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবীতেষ বিশ্বাস জানান, “শীত দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।”
বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ ও দিনমজুররা এই কনকনে ঠান্ডায় কাজ করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, কুয়াশা কিছুটা কমলে রোদের দেখা মিললেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে বেশি। আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
-এম এইচ মামুন
![Untitled-2_1.[1]](https://alokitoshodesh.com/wp-content/uploads/2026/01/Untitled-2_1.1-696x365.jpg)









