রক্তাক্ত ২০২৫: অপরাধের গ্রাসে জনপদ

২০২৫ সাল। এ বছরের প্রথম কয়েক মাসেই অপরাধ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় মব ভায়োলেন্স, খুন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাং-সম্পর্কিত সহিংসতা উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। নগর কেন্দ্র থেকে প্রান্তিক জনপদ—সবখানেই অপরাধের ধরন ও বিস্তার নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; এর পেছনে রয়েছে ভয়, অনিরাপত্তা এবং ভেঙে পড়া সামাজিক শৃঙ্খলার বাস্তব গল্প। ‘রক্তাক্ত ২০২৫’ তাই কেবল একটি শিরোনাম নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতায় নির্মিত এক কঠিন সত্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার মাঝেও বছরজুড়ে অপরাধের গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর—প্রতিটি মাসই ছিল কোনো না কোনো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, পৈশাচিক ধর্ষণ, রহস্যজনক গুম কিংবা উগ্র ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির সংবাদে ঠাসা। জাতীয় দৈনিকের পাতা ও অনলাইন পোর্টালগুলোতে শোক ও আতঙ্কের শিরোনাম ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

এ বছর দেশে সহিংস অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্ব, মাদক বিস্তার ও সামাজিক অবক্ষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও অপরাধ কমছে না—যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়—প্রয়োজন দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।

  • মব ভায়োলেন্স: আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত

২০২৫ সালের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অপরাধের ধরন ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনি। আইনের হাতে অপরাধীকে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে উত্তেজিত জনতার নিজ হাতে বিচার তুলে নেওয়ার প্রবণতা এ বছর মহামারি আকার ধারণ করে।

  • বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব

বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে এবং রাজনৈতিক তকমা দিয়ে অন্তত ১২ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেন থেকে শুরু করে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় ঘটে যাওয়া ‘মব জাস্টিস’-এর ঘটনা পুরো বিশ্ববিবেকের কাছে বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

  • ধর্মীয় ও সামাজিক অস্থিরতা

গুজবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটে, যেখানে উত্তেজিত জনতা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৫ সালে কেবল ধর্মীয় কারণে সৃষ্টি হওয়া মব ভায়োলেন্সেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৮৫ জন।

  • পারিবারিক কলহ ও ট্রিপল মার্ডার

জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জে এবং নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ পরিবারের সদস্যদের হাতেই নির্মমভাবে খুন হয়েছেন নারী ও শিশুরা।

  • মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের আততায়ী

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাটি বছরের বড় সময়জুড়ে ‘মৃতুপুরী’তে পরিণত হয়েছিল। ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারানো ছাড়াও সেখানে রাজনৈতিক কোন্দলে অন্তত ২০টি বড় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

  • মাগুরার সেই কালরাত

মার্চ মাসে মাগুরা সদর উপজেলায় ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় সারা দেশ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে- মাগুরায় সেই শিশু ধর্ষণ হত্যা মামলার রায় দিয়েছে আদালত। প্রধান আসামী শিশুটির বোনের শ্বশুড় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

  • সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল

পোশাক শ্রমিক নারীরা বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন অন্তত ৫০টি মামলা নথিবদ্ধ হয়েছে। এর বাইরে লোকলজ্জার ভয়ে মামলা না হওয়া ঘটনার সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

  • ধর্ষণের ভয়াবহতা: নিরাপত্তা হারানো নারী ও শিশু

২০২৫ সালটি নারী ও শিশুদের জন্য ছিল চরম অনিরাপদ। ধর্ষণের সংখ্যা এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত এক বছরে সারাদেশে ধর্ষণ হয়েছে ১,৪৫০টিরও বেশী।

  • পরিসংখ্যান

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রাথমিক তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ১,৪৫০টিরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। নারী ও শিশু নির্যাতনের এই চিত্র দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আজকের দিন পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে অন্তত ২৬২ জন মব ভায়োলেন্সের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই সময়ে মোট ২৭৬টি মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪২ জন। সংস্থাটির মতে, এ বছর প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৪ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র ( আসক)-এর হালনাগাদকৃত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ মাসে এই সংখ্যা বেড়ে ২৬২ জন হয়েছে। উল্লেখ্য ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে (৬৮৫টি)। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় হয়েছে ৩৫২টি।

  • গুম ও রহস্যজনক নিখোঁজ

বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও ২০২৫ সালে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ বছর গুমের ধরন ছিল মুক্তিপণ আদায় বা ব্যক্তিগত শত্রুতা।

  • নিখোঁজ ও মুক্তিপণ

রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকে অন্তত ১১০ জন ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ৪৫ জনের মৃতদেহ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ডোবা বা নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

  • সীমান্তবর্তী গুম

দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ছিল উদ্বেগজনক। পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব অপহরণ সংঘটিত হচ্ছে।

  • সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল সন্ত্রাস

২০২৫ সালে এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধের এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধ এ বছর আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রায় ৫,০০০ এর বেশি সাইবার অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে।

  • ফিন্যান্সিয়াল ফ্রড

গত এক বছরে ব্যাংকিং অ্যাপ ও ডিজিটাল পেমেন্ট হ্যাক করে সাধারণ মানুষের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাইবার দুর্বৃত্তরা। সিআইডি (CID) ও সাইবার পুলিশ ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রকে গ্রেপ্তার করে। সিআইডি’র নভেম্বর ২০২৫-এর এক রিপোর্টে দেখা যায়, একটি মাত্র প্রতারক চক্রই ৩০টি ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমন শত শত চক্র দেশজুড়ে সক্রিয় থাকায় সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

  • কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার

ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে মফস্বল শহর পর্যন্ত ‘কিশোর গ্যাং’-এর তাণ্ডব ছিল ২০২৫ সালের প্রতিদিনের শিরোনাম। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে এ বছর অন্তত ৪০ জন কিশোর ও তরুণ প্রাণ হারিয়েছে। ‘আইস’ ও ‘কুশ’-এর মতো ভয়াবহ মাদকের সহজলভ্যতা এই অপরাধপ্রবণতাকে উসকে দিয়েছে।

  • হত্যাকাণ্ডের মিছিলে ‘ওসমান হাদি’

২০২৫ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শরীফ মোঃ ওসমান হাদি (যিনি ওসমান হাদি নামেই পরিচিত) হত্যাকাণ্ড। তিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সক্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডটি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও সরকারের ব্যাখ্যা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধের সংখ্যা বেশি মনে হওয়ার একটি কারণ হলো বর্তমান সরকারের আমলে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বাধা নেই। আগে অনেক বড় বড় অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া হতো, যা এখন নথিবদ্ধ হচ্ছে।

তবে সাধারণ নাগরিকদের ভাষ্য ভিন্ন। ঢাকার সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর এলাকার বাসিন্দাদের মতে, পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কম থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মব ভায়োলেন্স রুখতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৫ সালে বাংলাদেশে খুনের ঘটনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১% বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছিল খুনের মূল কারণ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

খুন ও মব ভায়োলেন্স তথা বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মুস্তাক আহমেদ সাহদানী বলেন- “মব ভায়োলেন্স একটা খুবই অন্যায় কাজ, যার জন্য সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছেনা এবং তারা দিনদিন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছে; এভাবে একটা সমাজ চলতে পারেনা”।

সার্বিক ঘটনার বিচারকার্যের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “কোনো এক অদৃশ্য কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তেমনভাবে ফাংশন করতেছে না, তাছাড়া তদন্তের ধীরগতি, সাক্ষীদের অনুপুস্থিত থাকা ও জটিল আইনি মারপ্যাচ আসলে বিচারকার্যে ধীরগতি নিয়ে আসে”।

তিনি আরও যোগ করেন- “সর্বক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বশীল উপদেষ্টা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ঘাটতি ও গাফিলতির কারণেই মূলতঃ আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি দেখা যাচ্ছে”।

এক নজরে ২০২৫-এর ক্রাইম ফাইল:

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ২৩শে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ক্রাইম ফাইল-

  • মোট হত্যাকাণ্ড: ২,৬০০+ (গত বছরের তুলনায় ২১% বেশি)
  • ধর্ষণ: ১,৪৫০+
  • মব ভায়োলেন্সজনিত মৃত্যু: ১৫৬+
  • ছিনতাই ও ডাকাতি: ৬,০০০ এর অধিক মামলা
  • গ্রেপ্তার ও সাজা: পুলিশি অভিযানে সারা দেশে ৯২,০০০ গ্রেপ্তার করা হলেও সাজাপ্রাপ্তির হার এখনো ৫%-এর নিচে।

২০২৫ সাল আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, কেবল সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক সংস্কারই যথেষ্ট নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। রক্তক্ষয়ী এই বছরের শেষে এসে সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, যেখানে বিচারহীনতা নয়, বরং ন্যায়বিচারই হবে শেষ কথা। রক্তাক্ত ২০২৫ আমাদের সামনে এক নির্মম বাস্তবতা উন্মোচন করেছে—অপরাধ আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি এখন একটি গভীর সামাজিক সংকট। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; প্রয়োজন রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, বিচার ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ এবং সমাজের সর্বস্তরের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী আশ্রয় বন্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে নৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ২০২৫ শুধু একটি রক্তাক্ত বছর নয়—এটি হয়ে উঠবে আমাদের ব্যর্থতার স্থায়ী দলিল।

 

এম. এইচ. মামুন