আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ যদি কাউকে হত্যার বদলা ব্যতীত অথবা যমীনে ফাসাদ ছড়িয়ে দেওয়ার শাস্তি ব্যতিত হত্যা করে তবে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারো প্রাণ বাঁচালো সে যেন সব মানুষের প্রাণ বাঁচালো।’ -সূরা মায়েদা ৫ : ৩২
ইসলাম নাগরিকদের প্রাণরক্ষার অধিকারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে।
তাই মানুষ তথা নাগরিকের প্রাণ বাঁচাতে ইসলাম নিয়মিত আইন বানিয়েছে এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এ বিষয়টি তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, শুধু আইন-কানুন আর শস্তি নির্ধারণের মধ্য দিয়ে প্রাণের সুরক্ষা হয় না। বরং কঠোরভাবে সেইসব আইন ও শাস্তি বাসত্মবায়নের মাধ্যমেই জান-প্রাণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব অপর নাগরিকের প্রাণ রক্ষায় ভূমিকা রাখা। ইসলামের শিক্ষা এমনই। অপর নাগরিকের মামুলি কোনো ক্ষতিও যেন না হয়- ইসলাম তো সে শিক্ষাই দেয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রা. নবীজীর ইরশাদ বর্ণনা করেছেন। নবীজী ছোট ছোট পাথরকণা নিক্ষেপ করতেও নিষেধ করে বলেছেন, “কখনো এতে দাঁত ভেঙে যায়, কখনো এতে চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়”। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৪৭৯
হযরত আবু মূসা রা. রেওয়ায়েত করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আমাদের মসজিদ কিংবা বাজারে যায় এবং তার হাতে তীর থাকে তবে সে যেন তীরের ধারালো অংশে হাত দিয়ে ঢেকে রাখে, যেন কোনো মুসলমান আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।’ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৭৭৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৫৮৭
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নাগরিকের প্রতি অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত করতেও মানা করেছেন এবং বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন কোনো মুসলমান ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র দিয়ে ইশারা না করে। কেননা ইশারাকারীর তো জানা নেই যে, হয়তো শয়তান তার হাত থেকে অস্ত্র টেনে নেবে এবং (সে অস্ত্র তার ভাইয়ের গায়ে লাগাবে।) তখন এই অস্ত্রধারী ব্যক্তি জাহান্নামের গর্তে গিয়ে পড়বে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৭০৭২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬১৭
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবীজী এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের প্রতি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইশারা করে তার প্রতি ফিরিশতারা অভিশাপ দিতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ওই অস্ত্রটি রেখে দেয়; যদিও ইশারাকৃত ব্যক্তি ইশারাকারীর আপন ভাই হয়ে থাকে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬১৬
নবীজী অপর মুসলমানের ওপর হাতিয়ার উত্তোলনকারীকে মুসলমানদের সীমানা বহির্ভূত ঘোষণা দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের উপর হাতিয়ার উঠায় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ -সহীহ বুখারী, হাদীস ৭০৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০
ইসলাম প্রত্যেক মুসলমানের জান অপর মুসলমানের জন্য সম্মানীয় সাব্যস্ত করেছে এবং অপরের জীবনে ক্ষতি পৌঁছানোকে হারাম ঘোষণা করেছে। নবীজী ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় তোমাদের এক মুসলমানের জন্য হারাম হচ্ছে অপর মুসলমানের রক্ত (জীবন), সম্পদ ও সম্মান। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৭
নাগরিক নিরাপত্তায় ইসলাম জীবন, সম্পদ ও সম্মানের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও < দুর্নীতি প্রতিরোধের ওপর জোর দেয়, যেখানে রাষ্ট্র ও শাসকের দায়িত্ব নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং < সকলের < সহাবস্থান নিশ্চিত করা। ইসলামে, আল্লাহকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানকারী মনে করা হয় এবং ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব, আইনের শাসন এবং মৌলিক চাহিদা পূরণকে নাগরিক সুরক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা হয়।
কুরআনের আলোয় শান্ত সমাজে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যা এসবের মূল কারণ আল্লাহভীতির অভাব ও আত্মিক শূন্যতা। কুরআন ও হাদিস আমাদের শেখায়, নিরাপত্তা তখনই সম্ভব, যখন সমাজ আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শে ফিরে আসে। তাই এখনই প্রয়োজন কুরআনভিত্তিক নৈতিক পুনর্জাগরণ যাতে নাগরিক নিরাপত্তা নয়, পুরো জাতিই শান্তি ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসে ইনশাআল্লাহ।










