আসিয়ান শান্তি আলোচনার মধ্যেই থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন সংঘর্ষ

২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ওদ্দার মেনচে ও সিয়েম রিয়াপ প্রদেশের মধ্যবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতুর দিকে তাকিয়ে আছেন মানুষজন। ছবি: এএফপি

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে সোমবার ভোরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। কুয়ালালামপুরে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় খুঁজতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই এই সহিংসতা দেখা দেয়।

এই নতুন সহিংসতায় মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে জুলাইয়ে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত এবং সীমান্তের দুই পাশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে থাই গণমাধ্যম জানিয়েছে, সা কেও প্রদেশে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুই দেশের সরকারই সংঘর্ষ শুরু করার দায় অস্বীকার করেছে।

কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সীমান্ত এলাকায় ৫ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। থাইল্যান্ডে বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শিশুদেরসহ সাধারণ মানুষকে গোলাবর্ষণের সময় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

চলমান সহিংসতার মধ্যেও থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা আসিয়ান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। লড়াই শুরুর পর এটি দুই পক্ষের প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠকের সভাপতিত্বকারী মালয়েশিয়া জানিয়েছে, সেখানে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো ও আস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ, ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার এবং বিদ্যমান শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষ বন্ধে চীনও আলাদা কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

চৈতী/