প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে সময়ের বিবর্তনে সংবিধানের পরিবর্তনকে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি হিসেবে নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক সত্য বা বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মূল ক্ষমতা জনগণের হাতে এবং সময়ের প্রয়োজনে তারা এটি পুনর্লিখন বা সংশোধন করতে পারেন; বিচার বিভাগকে এই দ্বৈততাকে সম্মান জানাতে হবে।
তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য সংবিধান বাতিল করা ছিল না, বরং সংবিধানের সাথে বিচার বিভাগের সম্পর্ককে আরও স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করাই ছিল এই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রে বিচার বিভাগের মূল্যবোধ যতদিন অটুট থাকবে, ততদিন সুপ্রিম কোর্ট নাগরিক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হবে।
আজ আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাস কক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা একসঙ্গে দেশের বিচারিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করেছি। গত ষোল মাসে আপনারা যে সহযোগিতা আমাকে করেছেন, তার জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, অস্থির এই বিশ্বে বিচার বিভাগের স্থিরতা, সংযম, সততা ও সাহসই জাতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্থিতিশীলতার উৎস হতে পারে।
আজকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কর্মময় জীবন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াডাম কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে আইন শাস্ত্রের ডিগ্রি পেয়েছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি করেন। সৈয়দ রেফাত আহমেদ অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে কাজ করেছেন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৮৪ সালে ঢাকা জেলা আদালতে এবং ১৯৮৬ সালে হাই কোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল মাসে তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হন। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ও ড. সুফিয়া আহমেদের ছেলে। ইশতিয়াক আহমেদ দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদের মা ভাষা সৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. সুফিয়া আহমেদ বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অবসরে যাচ্ছেন এবং আজ ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস
মামুন









