শনিবার বেলা ১২টায় শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে শুরু করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ— কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখছে না ইনকিলাব মঞ্চ।
হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে তারা। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে এসে এমন অবস্থান তুলে ধরেন মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবির ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা।
হামলায় কাউকে সন্দেহ করছেন কিনা জানতে চাইলে জাবির বলেন, “আমরা কাউকে সন্দেহের চোখে দেখছি না; আবার কাউকে সন্দেহের বাইরেও রাখছি না। ভোটের রাজনীতিতে অনেকে ওসমান হাদিকে প্রতিপক্ষ মনে করতে পারে। এমন কারণেও হতে পারে।
“আবার এমনও হেতে পারে, যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, যে পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ওসমান হাদি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল, তারা ভাবতে পারে, ওসমান হাদিকে মেরে ফেললে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবে। আমরা জানিয়ে রাখি, ওসমান হাদি এখন ঘরে ঘরে তৈরি হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জাবির ও জুমা অনুরোধ করেন, তাদের দুজনের বাইরে কারো বক্তব্য যেন ইনকিলাব মঞ্চের বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা না হয়। শনিবার বেলা ১২টায় শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদি।
মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।এভারকেয়ারে নেওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দফা অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসকের ধারণা, গুলি হাদির মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলেও জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। ‘সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’ সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ওসমান হাদি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেন, “এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।”
গত জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যদি ‘পুরনো ধারায়’ রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। একই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন হাদি।
এর বাইরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা এবং দৃশ্যত পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন।
ম/ম










