যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

জানুয়ারির ২৪ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-এর নিউইয়র্কসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে ১১৫ জনের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আরেকটি তুষারঝড় আঘাত হানার পূর্বাভাস দিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর।

এই আশঙ্কায় নিউ জার্সি-এর গভর্নর মিকি শেরিল এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সোমবার রাত পর্যন্ত এ ঘোষণা বলবৎ থাকবে। শনিবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, কিছু এলাকায় ১৮ ইঞ্চিরও বেশি তুষারপাত হতে পারে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে সৃষ্ট এ দুর্যোগ ভার্জিনিয়া থেকে ধেয়ে এসে পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটসসহ আশপাশের এলাকায় আঘাত হানতে পারে। ডেলাওয়ার থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটির বেশি মানুষ এ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, যেখানে এক ফুটের বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি-আমেরিকানও রয়েছেন।

স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের তুষারঝড়ে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দেয় নগরবাসীর মধ্যে। সে সময় জমে থাকা বরফ অপসারণ নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। নতুন দুর্যোগের পূর্বাভাসকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অতীতের মতো ভোগান্তি যাতে না হয়, সে জন্য বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গভর্নর ক্যাথি হোকুল নিউইয়র্ক সিটি ও লং আইল্যান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের শতাধিক সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সার্বিকভাবে আবারও তুষারঝড়ের শঙ্কায় পূর্ব উপকূলজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

-বেলাল