পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে পঞ্চগড় সদর উপজেলা সহ বোদা/আটোয়ারি/দেবীগঞ্জ ও তেতুঁলিয়া এর বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন। বাজারে গেলেই বাড়তি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে জেলার ৫ টি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানে বেশি বেশি ব্যবহৃত পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, পেঁয়াজ, আলু ও বিভিন্ন সবজির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাজারে মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০, টাকা, যা আগে ছিল ৫০-৫২ টাকা। ভালো মানের চালের দাম কেজিতে ৬৫-৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মসুর ডালের কেজি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলার ডাল ১০০-১১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ২০০-২০৫ টাকায় আর খোলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। খেজুরের দামও মানভেদে কেজিতে ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
এ দিকে সবজির বাজারেও নেই স্বস্তি। পেঁয়াজের কেজি ৫০-৫৫ টাকা, আলু ২০ টাকা, বেগুন ৬০-৬৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৫০-১৫৫ টাকা, রসুন ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও গরুর মাংস ৭৫০ এবং খাসির মাংস কেজিতে হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।
রশিদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে দেন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে রমজানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন খরচ ও সরবরাহ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারা।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বাজারে নিয়মিত অভিযান, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং কঠোর মনিটরিং জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।