যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছে। তার মধ্যেই বিমানবাহী রণতরীর পর এবার পশ্চিম এশিয়ায় ইরান উপকূলের কাছে যুদ্ধবিমান মোতায়েন বাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
অঞ্চলটিতে গত ২৪ ঘন্টায় এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ মিলিয়ে ৫০ টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে খবরটি জানায় তারা।
বেশকিছুদিন থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি এলাকার সমুদ্রে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতবছর ডিসেম্বরের ওই অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
এই বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গী তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। এবছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই ইরান উপকূলের কাছে সেগুলো ঘাঁটি গেড়েছে।
এর পর দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আরেক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।
পরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিবিসি-র খবরে বলা হয়েছিল, কয়েক ডজন এফ-১৫ জঙ্গিবিমান, একটি এমকিউ-৯ রিপার কমব্যাট ড্রোন এবং আরও কয়েকটি এ-১০ সি থান্ডারবোল্ট ২ গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান জর্ডানের মুয়াফাক সল্টি বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাকও মিশরের সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরের দিকে যেতে দেখা গেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি বিমানও উপসাগরের আকাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে।
তাছাড়া, ওই অঞ্চলে আগে থেকেই ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পোসেইডন এবং ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের উপস্থিতি এবং আরও কিছু গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন থাকারও খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিপ্রদর্শনের মাঝেই ইরান পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। যদিও ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিছক পরীক্ষামূলক। তবে তেহরানের এই দাবি নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকেরই।
এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় দফা আলোচনার আগে দুই পক্ষই বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।
-সাইমুন










