নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল বসন্তবরণ

ছবিঃ সংগৃহীত

উৎসব, রঙ আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে বসন্ত উৎসব ১৪৩২ পালিত হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্লাবের (এসএস) উদ্যোগে দিনব্যাপী এ আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়।

সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে তৈরি ফেস্টুন, ফ্লায়ার ও ব্যানারে সাজিয়ে তোলেন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। বাসন্তী রঙের পোশাক, হাতে ফুল আর মুখভরা হাসিতে হাজারো শিক্ষার্থী বসন্তকে বরণ করে নেন। চারদিকে ছিল হলুদ-কমলার ঔজ্জ্বল্য, ফুলের সুবাস আর সুরের মূর্ছনা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও সদস্য বেনজীর আহমেদ, উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আজিজ আল কায়সার বলেন, এনএসইউয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বসন্তের আগমন আমাদের সবার জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি মিলেমিশে থাকার শিক্ষা দেয়, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় করে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, বসন্ত মানেই নতুনত্ব, সংস্কৃতি এবং তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। ঝরা পাতার পর যেমন নতুন পাতা গজায়, তেমনি বসন্ত আমাদের জীবনে নতুন আশা ও সম্ভাবনার জন্ম দেয়।

উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, এনএসইউ শুধু শিক্ষার আলো ছড়ায় না, আমাদের শিক্ষার্থীরা সব সময় বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, বসন্ত এমন একটি ঋতু, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মনে ভিন্ন এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফুলের সমারোহ যেমন মনকে আনন্দিত করে, তেমনি সাজসজ্জাতেও রিফ্লেকশনটা আসে। বসন্ত নতুন ইচ্ছা ও নতুন ভাবনার এক শুভ সূচনা।

এসএসইউ এসএস ক্লাবের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজর সাবনিন রহমান স্বর্ণা বলেন, আমাদের নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সব সময়ই নানা আয়োজনে ক্যাম্পাসকে রঙিন করে রাখে। বিশেষ করে আমাদের ফাল্গুনের অনুষ্ঠানটি ঘিরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকে আলাদা উচ্ছ্বাস। দিনটি উদযাপনের জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে।

এসএস ক্লাবের দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয় বসন্ত-র‍্যালির মধ্য দিয়ে। এরপর বসন্তের আগমনী নৃত্য, আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা ও ফ্ল্যাশ মব ক্যাম্পাসে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করে। এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী মিলা, যেখানে দর্শক-শ্রোতারা মেতে ওঠেন উৎসবের আনন্দে।

-বেলাল