নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ করেছেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন নিয়ে।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে রয়েছেন এবং তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিল ২০২৮। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ তখনই শূন্য হয় যদি তার মেয়াদ শেষ হয়, পদত্যাগ করেন অথবা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ ঘটে। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবাল জানান, “সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরই নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। বয়স ৩৫ বছরের কম হলে বা সংসদ সদস্য না হলে কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।”
বাংলাদেশে আগে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নির্বাচিত হতেন, তবে ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনের তফসিল স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সংসদ অধিবেশনের সময়।
বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পদক্ষেপ নেন, তাই অনেক সময় পদটিকে ‘আলংকারিক’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। তবে রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন, যেটি তার একক দায়িত্ব।
রাজনৈতিক ও সংবিধান বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, জুলাই সনদ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে। এতে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে। তবে সংবিধান সংশোধনের পরই এই ক্ষমতা কার্যকর হবে।
-বেলাল










