এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার শপথ নিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কাজ হিসেবে বাবা ও মায়ের দোয়া নিতে তাদের সমাধিতে ছুটে গেলেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে গিয়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরাসরি বঙ্গভবন বা সচিবালয়ে না গিয়ে তারেক রহমান তার পরিবার নিয়ে জিয়ারত করতে আসেন। তার সাথে ছিলেন: ডা. জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর কন্যা, শামিলা রহমান প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী (ছোট ভ্রাতৃবধূ)।
জিয়া উদ্যানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে তার পিতা জিয়াউর রহমান এবং পরে তার মাতা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তাকে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আসার খবর পেয়ে জিয়া উদ্যান এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও অনেকে তাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন। জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মসূচিতেই মা-বাবার কবর জিয়ারত করার মাধ্যমে তারেক রহমান তার রাজনৈতিক আদর্শ ও শেকড়ের প্রতি অবিচল থাকার বার্তা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন আবেগী সংহতি তৈরি করলেন।