ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মূল ‘নির্দেশিকা নীতিমালা’ নিয়ে বোঝাপড়া হয়েছে।
এই নীতিমালার বিষয়েই অগ্রগতি হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে একটি চুক্তি আসন্ন।
জেনিভায় বৈঠক শেষে ইরানের গণমাধ্যমকে আরাগচি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা কিছু পথনির্দেশক নীতিমালায় সাধারণভাবে একমত হয়েছি।
এখন থেকে আমরা এই নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে সামনে এগুব এবং সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়বস্তু রচনায় কাজ করব। নথি আদান-প্রদানের পর দুইপক্ষ তৃতীয় দফা আলোচনার দিনক্ষণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষো আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ওদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনিও পরোক্ষোভাবে আলোচনায় জড়িত ছিলেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে।”
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক শেষে চূড়ান্ত একটি চুক্তি করার পথে ‘স্পষ্টতই পরবর্তী ধাপে’ যাওয়ার অগ্রগতি নিয়ে জেনিভা ছড়ছে।
মঙ্গলবার দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ইরানি গণমা্ধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরান নিরাপত্তার জন্য পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে সাময়িকভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দিচ্ছে।
ওদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী হরমুজে সামরিক মহড়াও দিচ্ছে। ইরান এর আগে হামলার শিকার হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকি, দেশটির কাছে সাগরে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো এবং আক্রান্ত হলে ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষো আলোচনা শুরু হয়।
ওমানের মাসকটে গত ৬ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফা বৈঠকের পর মঙ্গলবারে হল জেনিভায় দ্বিতীয় দফার বৈঠক।
বৈঠকের পর জেনিভায় এক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, সুযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আলোচনা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন। যেখানে ইরানের বৈধ অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।
-সাইমুন










