অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আন্ত: মন্ত্রণালয়ের যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আন্ত: মন্ত্রণালয়ের যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েনে বক্তারা। তারা বলেন, দেশে স্বাস্থ্য উন্নয়নে বেশকিছু আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হলেও তার সঠিক বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয় আমাদের জাতীয় উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে জাতীয় নীতিমালার মূল কেন্দ্রবিন্দু করে সচেতনতা-ভিত্তিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব উদ্যোগ এবং সরকার – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

মঙ্গলবার ‘‘শক্তিশালী অর্থনীতি, শক্তিশালী সমাজ: জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশনের ভূমিকা’ শীর্ষক অনলাইন কনফারেন্সে তারা এ দাবি জানান। কনফারেন্সে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে উদ্ভাবনী ধারণা, নীতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে দেশের প্রায় ৫০ জন খ্যাতনামা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, সমাজকর্মী তাদের তথ্য, মূল্যবান বক্তব্য ও মতামত তুলে ধরেন। এছাড়াও শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণকারী অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডিপার্টমেন্ট হেড প্রফেসর ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, জলবায়ু পরিবর্তন ও হেলথ প্রমোশন বিষয়ক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবির, হেলথ ব্রিজ ফাইন্ডেশন কানাডা এর সিনিয়র এডভাইজর ডেবরা ইফরইমসন, প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রাম মো. হাসান শাহরিয়ার, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রফেসর ড. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রোমানা হক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবু জামিল ফয়সালসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ের পাশাপাশি সুশাসন ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। পুঁজিবাদী চিন্তা থেকে আমরা অস্বাস্থ্যকর জীবনাচার ও খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। নতুন নির্বাচিত সরকারকে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা ও টেকসই অবকাঠামো নির্মানে উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারি সংগঠনগুলোকে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে হবে । জনস্বাস্থ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রচার-প্রচারণা চালানো জরুরি।

তারা বলেন, নগর পরিকল্পনায় হাঁটা ও সাইকেলবান্ধব পরিবেশ, পার্ক, মাঠ, জলাশয় সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেয়া, বায়ু ও শব্দদূষণ, তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ; তামাক, কোমল পানীয়, ব্যক্তিগত গাড়িসহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ডকুমেন্ট প্রস্তুত; এডভোকেসি এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা জরুরি। শিশু, নারী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ গণপরিসর নিশ্চিত ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে হেলথ প্রমোশন প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, নীতি উন্নয়ন, এ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। বক্তারা স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিমধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন; তামাক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর আরোপিত সারচার্জ/কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ হেলথ প্রমোশন কার্যক্রমে ব্যয় করার দাবি জানান।