পাসপোর্ট জমা দিয়েছি, আমার ভিসা নিয়ে কোনোদিন সমস্যা হয়নি: অর্থ উপদেষ্টা

আপাতত বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তিনি তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। একইভাবে উপদেষ্টাদের অনেকেই তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং এখন সবাইকে নতুন করে সাধারণ পাসপোর্ট করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং এখন আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব জরুরি কিছু না হলে তিনি সাধারণত কোনো বৈঠকে যান না বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুধু তিনি নন, অনেকেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবারই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়।

পরিবারের সদস্যরাও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তার স্ত্রীও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী খুব একটা ভ্রমণ করেন না, তবু নিয়ম অনুযায়ী সেটিও জমা দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের সবাইকে নতুন করে সাধারণ পাসপোর্ট করতে হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতা করে তিনি বলেন, এখন আপনাদের মতো সাধারণ পাসপোর্ট নিয়েই তাকে চলাফেরা করতে হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা নেওয়ার সুবিধার্থেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে—এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তার ভিসা নিয়ে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, তার ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়নি।

নির্বাচনের তিন দিন আগে একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছে—মেয়াদের শেষ সময়ে এসে কেন এ ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি দেবেন না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হচ্ছে, তা আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো চাপ তৈরি করবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ওই বিষয়গুলোতে তিনি যুক্ত নন, তাই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার তেমন কোনো অর্থ নেই।

রাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যবসা বণ্টনের বিধিমালা ও জনবল পরিকল্পনার কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোও কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইনের দিক থেকে আর কোনো বিষয় বাকি নেই।

এই সরকারই কি বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে পারবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই সরকারের সময়েই এটি বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে কেবল সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাকি রয়েছে। এটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় বসেই বিষয়টি চূড়ান্ত করবে বলে জানান তিনি।

সচিবদের সংগঠন থেকে এতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। তবে যদি কোনো বাধা আসে, তা মোকাবিলা করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, এটি একটি যুক্তিসংগত উদ্যোগ এবং সবাই বোঝে যে এটি দেশের জন্য ভালো। এই সংস্কার না হলে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে আদায় ও নীতিনির্ধারণে কোনো বাস্তব উন্নতি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

-সাইমুন